ISBN হলো International Standard Book Number (আন্তর্জাতিক মান পুস্তক নম্বর), যা বিশ্বের প্রতিটি বইকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য সংখ্যায়ন পদ্ধতি।
সহজ কথায়, একটি বইয়ের আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র হলো এর ISBN। এটি বইয়ের দোকান, লাইব্রেরি এবং প্রকাশকদের বই খুঁজে পেতে ও রেকর্ড রাখতে সাহায্য করে।
ISBN সম্পর্কে মূল তথ্য:
সংখ্যার দৈর্ঘ্য: ২০০৭ সালের ১ জানুয়ারির আগে এটি ১০ সংখ্যার ছিল, তবে বর্তমানে এটি সর্বদা ১৩ সংখ্যার হয়।
উদ্দেশ্য: কোটি কোটি বইয়ের ভিড়ে একটি নির্দিষ্ট বই, তার সংস্করণ এবং ফরমেট (যেমন: পেপারব্যাক বা হার্ডকভার) সঠিকভাবে চেনার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
উৎপত্তি: এই পদ্ধতিটি ১৯৬৬ সালে প্রথম যুক্তরাজ্যে প্রবর্তন করা হয়।
আবেদন: বাংলাদেশে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর থেকে অনলাইনে ISBN সংগ্রহ করা যায়।
ISBN-এর ৫টি অংশ যা নির্দেশ করে:
১. Prefix (প্রিফিক্স): বর্তমানে এটি সাধারণত ৯৭৮ বা ৯৭৯ হয়।
২. Registration Group: নির্দিষ্ট দেশ, অঞ্চল বা ভাষা গোষ্ঠী।
৩. Registrant: প্রকাশকের পরিচয়।
৪. Publication: বইয়ের নির্দিষ্ট সংস্করণ ও ফরমেট।
৫. Check Digit: গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করার জন্য শেষ একটি সংখ্যা।
উল্লেখ্য যে, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র বা বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য ISBN দেওয়া হয় না; সেগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয় ISSN।
ISSN-এর পূর্ণরূপ হলো International Standard Serial Number (আন্তর্জাতিক মান ধারাবাহিক সংখ্যা)।
সহজ কথায়, এটি একটি অনন্য ৮-সংখ্যার কোড যা সাময়িকী বা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত প্রকাশনাগুলোকে (যেমন: পত্রিকা, ম্যাগাজিন, জার্নাল) আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
ISSN সম্পর্কে মূল তথ্য:
গঠন: এটি ৮টি সংখ্যা নিয়ে গঠিত, যা মাঝখানে একটি হাইফেন (-) দিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত থাকে (যেমন: ১২৩৪-৫৬৭৮)।
কাদের জন্য: সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, বার্ষিক প্রতিবেদন (Annual Reports), বৈজ্ঞানিক জার্নাল এবং ডাটাবেসের জন্য এটি দেওয়া হয়।
পার্থক্য: বইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ISBN, আর নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশিত সাময়িকীর জন্য ব্যবহৃত হয় ISSN।
সুবিধা: লাইব্রেরি বা ডাটাবেসে লাখ লাখ পত্রিকার ভিড় থেকে একটি নির্দিষ্ট পত্রিকা খুঁজে পেতে এটি সাহায্য করে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: যদি কোনো ম্যাগাজিনের নাম পরিবর্তন হয়, তবে তাকে নতুন একটি ISSN নিতে হয়। কিন্তু বইয়ের নতুন সংস্করণের জন্য ISBN পরিবর্তন হলেও নাম একই থাকলে চলে।